শিরোনাম
কাজী হুমায়ুন কবির | ১২:৩৭ পিএম, ২০২৬-০৯-০২
বাংলাদেশ রেলে এই মুহুর্তে যার দূর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে গুঞ্জনের শেষ নেই, তিনি হলেন রেলের খোদ মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। তার কর্মজীবনে রেলের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও স্বল্প সময়ে অগাধ টাকার মালিক, পরিবারের বিলাসী জীবন, তার থেকে সুবিধা নেয়া সিম্ডিকেটের দৌরাত্ন্য ও দেশের অর্থ-পাচার ও উর্ধতনদের ম্যানেজ ও সিন্ডিকেটদের নিজের জন্য লেজুরবৃত্তি করানোসহ শত অভিযোগের হালখাতা এই মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে। তার দুর্নীতি ও অনিয়মের হালখাতা নিয়ে ফ্যাসিষ্ট আমল থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ইলেকট্রিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে অসংখ্য সংবাদ প্রকাশ হলেও প্রাতিষ্ঠানিক ও দুদুকের তদন্ত এগুইনি। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের তদন্ত না হওয়ায় রেলসহ দেশের সাধারণ জনমনে ইন্টেরিম সরকারসহ বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে গুঞ্জন চলছে, মহাপরিচালক ম্যানেজের জোড়ে সব দুর্ণীতি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। রেল ভবনের কয়েকজন উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ইন্টেরিম সরকারের আমলে অনেক কর্মকর্তা ভেবেছিলেন, মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে উঠা অসংখ্য দুর্ণীতির অভিযোগের প্রশাসনিক তদন্ত হবে, বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অডিট আপত্তির তদন্ত কমিটি করে তদন্ত এগিয়ে যাবে। অপরাধীর বিচার হবে। অথচ তদন্ত কমিটি না করে রহস্যজনকভাবে তাকেই ডিজি পদে বহাল করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকারী প্রতিষ্ঠানের কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির অভিযোগ এলে, ধারা অনুযায়ী সেই দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট অডিট কমিটির আপত্তি হলে দুর্নীতি বা অনিয়ম প্রমানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তদন্ত কমিটির তদন্তে কর্মকর্তা দোষী স্যাবাস্ত হলে বিভাগীয় মামলা হয়, শাস্তির আওতায় আসে। সেক্ষেত্রে বছরের বছর ডিজি আফজালের ব্যাপারে যেন সম্পুর্ণ ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও যেন নিরবতার ভুমিকা নিয়েছেন। তাই রেল সেক্টরে গুঞ্জন উঠেছে, ডিজি আফজালের লবিংয়ের কাছে সব যেন তুচ্ছ। তার লবিংয়ের কারিশমায় মন্ত্রণালয়ের সচীবসহ সবাই মন্ত্রমুগ্ধ নিরবতায় কি করা যায় জল্পনা কল্পনা করলেও তদন্ত কমিটি হয়নি, হলেও এগুচ্ছেনা। আরো জানা যায়, তার রয়েছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন হাই ভোল্টেজের লেজুরবৃত্তি করা মনোনীত লোক। যারা তার অডিট আপত্তির অভিযোগ আমলে না নেয়া ও দোষী সাব্যস্ত না করার জন্য বিভিন্ন রকম তদবীর, গলাবাজী ও বানী শুনিয়ে মহাপরিচালক আফজাল হোসেনকে মনোরঞ্জন করে রেল থেকে বিভিন্ন সুবিধাদি ও ফায়দা নিয়ে নিজের, পরিবার ও ভবিষ্যত জীবনের আখের গোছাচ্ছেন।।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, রেলওয়ের 'মহাপরিচালক' পদে যোগদান করার আগে থেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদে তার সিন্ডিকেটদের সাথে নিয়ে মহাদুর্নীতি করে এসেছেন। নিয়োগ বানিজ্য, টেন্ডার বানিজ্য, প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগে কোটি কোটি টাকা আত্নসাত ও তার রাজত্ব কায়েম রাখতে যেয়ে শত অনিয়ম করে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেল কর্মকর্তা বলেন, ডিজি আফজাল হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্য কাউকে গ্রেড-২ তে পদোন্নতি না দেওয়ার কৌশল নেন। যেসব কর্মকর্তাকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন, সেসব কর্মকর্তাদের এসিআর ও ভাবমুর্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিনস্ট করে গ্রেড -৩ হতে গ্রেড-২ তে পদোন্নতি না দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন, যা গর্হিত কাজ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সুত্রে আরো জানা যায় লাগেজ ভ্যান ক্রয়ের বিষয়টি অপব্যাখ্যা করে মহাপরিচালক পদের প্রতিদ্বন্দ্বী ৩য় গ্রেডে এগিয়ে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, যাতে তিনি পদোন্নতি না পান। এটি একটি বড় ধরণের ফৌজদারী অপরাধ। অথচ বহুল ব্যবহৃত লাগেজ ভ্যান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত মহাপরিচালক কর্তৃক প্রণীত মাষ্টার প্ল্যানের অংশ।
জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ২৫ এপ্রিল সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন তিনি। সেসময় তৎকালীন সরকারের তোষন ও পেষনে সরকারি কর্মচারী (উচ্চতর স্কেল মঞ্জুরী) বিধিমালা" এবং প্রচলিত পদোন্নতি নীতিমালার লঙ্গন করে চতুর্থ গ্রেডের মেধা তালিকায় ২২তম স্থানে থাকা আফজাল হোসেনকে অনেক সিনিয়র অফিসারদের ডিঙিয়ে তাকে ২য় গ্রেডের পদ "পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প"-এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে পদায়িত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৩য় গ্রেড থেকে সরাসরি ১ম গ্রেডের (মহাপরিচালক) পদে তার এই পদোন্নতি করা হয়। জানা যায়, আওয়ামী সরকারের আস্হার প্রতীক হিসাবে পরিচিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের শীর্ষ পদে থাকা মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। যার বিরুদ্ধে শত অভিযোগ থাকা সত্বেও তার লবিং ডাবিংএ এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
জানা যায়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আফজাল হোসেন বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়েও শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও ওবায়দুল কাদেরের কাছের মানুষ হিসাবে ১৬ বছরে দলীয় দাপট ও প্রভাব খাটিয়ে নিজের সুযোগ সুবিধা গ্রহন করেছেন। সেইসাথে সাবেক রেলমন্ত্রী মো মুজিবুল হক, পিএস গোলাম কিবরিয়া ও আরেক সাবেক রেলমন্ত্রী মো নুরুল ইসলাম সুজনের স্নেহভাজন হয়ে রেলওয়ের সবচেয়ে লোভনীয় (লুক্রেটিভ) পদ বিশেষ করে ডিআরএম (পাকশী), প্রকল্প পরিচালক, খুলনা-মোংলা পোর্ট রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প, চীফ ইঞ্জিনিয়ার (পশ্চিম), রাজশাহী, বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পের, 'প্রকল্প পরিচালক' পদে পদায়িত হন। এসব গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ব্যাপক ঘুষ, লাগামহীন দুর্নীতি, সরকারী অর্থ লুটপাট, তছরূপের অভিযোগ উঠে। রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে তার মনোনীত ঠিকাদারদের দিয়ে চুক্তিপত্রের ২৫% থেকে ৩০% কাজ করিয়ে চুক্তিপত্রের অবশিষ্ট টাকা ঠিকাদারদের সাথে ভাগ-বাটোয়ারা করে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জনের মাধ্যমে রেলওয়েকে চরম ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছেন যার ফলে প্রতি বছর রেলওয়েকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে।
মোঃ আফজাল হোসেন ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত পদ্মা রেল প্রধান প্রকৌশলী, জুন ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত খুলনা-মোংলার পিডি, ৩রা ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ২৬ আগস্ট ২০১৯ পর্যন্ত রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, আগস্ট ২০২০ হতে সেপ্টেম্বর ২০২১ পর্যন্ত ঢাকা-টঙ্গী ৩য় ও ৪র্থ লেন প্রকল্পের পিডি পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। এসব প্রকল্পে পিডি থাকাকালে পছন্দের ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ সম্পাদন করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন ও আত্মসাৎ করেছেন। জানা যায়, বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে ২২/২৩ সালে চায়না থেকে পদ্মা রেললাইন প্রকল্পের অধীনে ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহি ক্যারেজ বা বগি কেনা হয়, যা বাংলাদেশ রেলওয়েতে এযাবৎকালের সবচেয়ে উচ্চ দামে কেনা। যে সব বগি ছিল সবচেয়ে নিম্মমানের। অভিযোগ উঠেছে এই ক্রয়ে লুট করা হয়েছে প্রায় ২শত কোটি টাকা। তাছাড়া দরপত্র নীতিমালা নিয়ে, অডিট আপত্তি রেলের বগি কেনা নিয়ে, অতি অল্প সময়ে বগির চাকা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও আজ অবদি তদন্ত এগোয়নি।
পদ্মা সংযোগ প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। সরকারের অডিট বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের প্রায় এক তৃতিয়াংশ আত্নসাত হয়েছে। যার ফলে নানা অনিয়ম আর ভুয়া ভাউচারে ১৩ হাজার ৩৬১কোটি ৫২ লাখ টাকার অডিট আপত্তি উক্খাপিত হয়েছে, তার মধ্যে গুরুতর অনিয়ম হিসাবে ৯হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা। এই টাকা পুরোটাই প্রকল্পের পিডি হিসাবে ভুয়া বিল পরিশোধ করেছেন বলে অভিযোগ, যার এখনো তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি। রুপসা সেতু নির্মানের ঠিকাদার এলএনটি চুক্তিপত্র মুল্য প্রায় ৩০০কোটি টাকা বৃদ্ধি করে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ, রেলওয়ের মেগা প্রকল্পে কতটা দুর্নীতি-লুটপাট হয়েছে তা সর্বশেষ সরকারের অডিট বিভাগের প্রতিবেদনেই কিছুটা বেরিয়ে এসেছে। দুর্নীতি-লুটপাটের কারণে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকা সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে মর্মে মহাপরিচালক, অডিট অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে। অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মীমাংসা যোগ্য নয় এমন গুরুতর অনিয়মগুলোর মাধ্যমে সরকারের অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে মূল চুক্তির বাইরে ৫৫৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে তা আত্মসাত করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণে মূল নকশার তুলনায় গড়ে ১.৭ মিটার কম উচ্চতায় মাটি ভরাট ও অন্যান্য আইটেম কম হলেও ঠিকাদারদের অতিরিক্ত বিল দেয়া হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মে ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। রেল লাইন নির্মাণে বালির স্তরও মূল স্পেসিফিকেশনের তুলনায় গড়ে ২০০ মিমি কম হলেও ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল দেয়া হয়েছে ২১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রগ্রেস রিপোর্টের তুলনায় কাজ বেশি দেখিয়ে ১ হাজার ১১ কোটি টাকা বিল 'বিশেষায়িত' কাজ হিসেবে দেখিয়ে চুক্তি করা হয়েছে । তাছাড়া জিআইবিআরের রিপোর্ট অনুযায়ী যে সব দুর্নীতি করেছেন তার ফিরিস্তিতে দেখা যায়- চুক্তিপত্র নং- ১৩/বিআর/ডাব্লিউ জেড/ব্যালাস্ট/রায়পুর/১৬-১৭/ডাব্লিউ-২ তারিখঃ ০৮.০৩.২০১৭, ভুয়াবিলের পরিমাণ: ৮৫.৪৭ লক্ষ টাকা। (২) চুক্তিপত্র নং-১৪/বিআর/ডাব্লিউ জেড/ব্যালাস্ট/মূলাডুলী/১৬-১৭/ডাব্লিউ-২ তারিখঃ ৬.০৩.২০১৭, ভূয়াবিলের পরিমাণঃ ১.১৯ কোটি টাকা, চুক্তিপত্র নং-১৯/বিআর/ডাব্লিউ জেড/ব্যালাস্ট/হিলি/১৬-১৭/ডাব্লিউ (২) তারিখঃ ১৫.০৫.২০১৭, ভূয়াবিলের পরিমান ৬৩ লক্ষ টাকা,
চুক্তিপত্র নং-৫৪.০১.৮১০০.১৫৫.০২.০৩২-১৭/২৬ তারিখঃ ৫.০৯.২০১৭, ভূয়াবিলের পরিমাণ: ২৩.৯৭ লক্ষ টাকা, সান্তাহার রেলওয়ে সাইডিং-এ ১০০০ ঘনমিটার ব্যালাস্ট (পাথর) সরবরাহের চুক্তিপত্রের মাত্র ৪৯৯.০০ ঘনমিটার ব্যালাস্ট সরবরাহ নিয়ে আফজাল হোসেন ১০০০ ঘনমিটার ব্যালাস্টের ভূয়া চূড়ান্ত বিল প্রদান করেন। ভূয়াবিলের পরিমাণ: ১৭.৫৩ লক্ষ টাকা, চুক্তিপত্র নং- ২১/বিআর/ডাব্লিউজেড/ব্যালাস্ট/মৌচাক/১৬-১৭/ডাব্লিউ (২) তারিখঃ ৪.৬.২০১৭, ভূয়া বিলের পরিমান ৩১.৯৭ লক্ষ টাকা। সর্বমোট ৬টি চুক্তিপত্রের অনুকূলে তিনি ৩.৪০৯৪ কোটি টাকার ভূয়া বিল প্রদান করে ঠিকাদারের নিকট হতে কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন।
পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে রেলওয়ের এমব্যাংকমেন্ট নির্মাণে পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেন এবং ৬৭% পাথরের পরিবর্তে ৩০% ইটের খোয়া দিয়ে ঠিকাদারকে শত কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা দিয়ে কোটি কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন।
গুঞ্জন রয়েছে নিজে দূর্নীতিবাজ হওয়ায় রেলওয়ের অন্য দূর্নীতিবাজদের সাথে নিয়ে দাপটের সাথে সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাইল থেকে শুরু করে নতুন সরকারের নীতিপ্রণেতা-সবখানেই রহস্যজনকভাবে রাতারাতি পরিস্থিতি পাল্টে নিজের করেন তিনি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং কথিত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে ৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পোষ্য কোটায় নির্ধারিত ৩১১টি পদের মধ্যে ৩০৯টি পুরণ করা হয়। যোগ্য প্রার্থী না থাকায় দুটি পদ খালি রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত কয়েকজন আদালতের দ্বারস্থ হলে বিষয়টি নিয়ে একাধিক পর্যায়ে আইনি প্রক্রিয়া চলে।
অভিযোগকারীর দাবি, আদালত যোগ্য আবেদনকারীদের পোষ্য কোটা বজায় রেখে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও পরবর্তীতে সেই নির্দেশনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে ৬৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশের সঙ্গে এ নিয়োগের সামঞ্জস্য কতটা ছিল, সেটি খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে দুদকের কাছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত তিন সদস্যের যাচাই-বাছাই কমিটি ১৩২ জন রিট আবেদনকারীর তথ্য পর্যালোচনা করে মাত্র ২৪ জনের তথ্য সঠিক পেয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে ৪২ জনকে ভুয়া রিটকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ১৪ জন পরীক্ষায় অকৃতকার্য, ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নেননি, ১১ জন পোষ্য কোটায় আবেদন করেননি এবং ৩৩ জন কমিটির সামনে উপস্থিত হননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
"সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮" এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রচলিত প্রবিধান অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলমান থাকলে বা গুরুতর অভিযোগ থাকলে তাকে স্পর্শকাতর বা সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে পদায়ন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। মোঃ আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার 'ক্লিয়ারেন্স' বা ছাড়পত্র ছাড়াই তাকে মহাপরিচালক পদে আসীন করা হয়েছে। এনিয়ে রেলওয়েতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। রেল ধ্বংসের সাধুবাবা মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের অপরাধের তদন্তপুর্বক ব্যবস্হা নেয়া জরুরী মনে করেন রেলসংশ্লিষ্টরা। এই বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেনকে প্রতিবেদকের মুঠোফােন থেকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, বন্ধ আমিন জুট মিলসকে পুনরায় উৎপাদনমুখী করার মাধ্য...বিস্তারিত
মো. আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিদিন নানা কাজে ঘর থেকে বের হন মানুষ। কেউ যান কর্মক্ষেত্রে, কেউ বেড়াতে, কেউ জরুরি কাজে। কাজ শেষে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চাল ও ভোজ্যতেল, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার এই দুই অপরিহার্য পণ্যের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়à§...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কà§...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করাকে কেন্দ্র করে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited